চল্লিশ দিন
শেষ পর্ব
bengali love story তনু স্ত্রী। কিন্তু তাকে স্পর্শ করা যাবে না এখন … চল্লিশ দিনের মধ্যে একবার স্পর্শ করা লাগবে … সেটা বাধ্যতামূলক … ইফতি এগুলো নিয়ে ভাবতে বসলেই আউলিয়ে যায়।
লোক দেখানো হানিমুনের আজ দ্বিতীয় দিন।ইফতি তনুর চঞ্চলতায় মাঝে মাঝে স্বাভাবিক হয়ে যায়। আবার যখন রিফাতের কথা তার মনে পরে তখনই অস্বাভাবিক আচরণ করে।
সেদিন সন্ধ্যায় তনুর জোরাজুরি তে ইফতি আবার বীচে ঘুরতে গেলো তনু তখন ঢেউ নিয়ে খেলার ছলে হাসতে হাসতে প্রায় ইফতিকে জড়িয়ে ধরলো।
হৃদস্পন্দন তখন এতটাই জোরে চলছিলো ইফতির যা হয়ত তনুও শুনতে পারছিলো।
প্রথমদিনের তুলনায় তনুকে এখন অন্যরকম লাগে ইফতির কাছে। তার প্রতি মায়া লাগে। হাত ধরে হাটতে ইচ্ছা করে। রাত জেগে কথা বলতে ইচ্ছা করে……… তাকে সব সত্য বলতে ইচ্ছা করে ইফতির। short stories in bengali যেটা শোনার পর তনু হয়ত বাকী কয়টা অপেক্ষা না করে চলে যাবে। আর কখনো কাউকে বিশ্বাস করবে না।
যদিও কথা ছিলো ৩ দিনের হানিমুন সে জায়গায় তারা ৭ দিন কাটিয়ে দিলো। কিন্তু ইফতি তনুকে একবারো স্পর্শ করলো না।
রিফাতের ফোন দেখলে সে কেটে দিতো। কোন কথা বলতো না।
রিফাতের ফোন দেখলে সে কেটে দিতো। কোন কথা বলতো না।
৭ দিন পর যখন তারা বাসায় ফিরলো ততক্ষণে তাদের সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুত্বের দিকে। সকালের নাস্তাটা ইফতি তনুর ডাকের অপেক্ষায় থাকে। কিছু প্রয়োজন হলে সে মা কে না ডেকে তনুকে ডাকাডাকি শুরু করে। সন্ধ্যা হলে সবাই মিলে লুডু খেলে।
ইফতির দলে থাকে তনু। দুজনের বিপক্ষে থাকে ইফতির বাবা মা। খেলার ছলে অথবা গল্পের ছলে তনু ইফতির হাত টা ধরে। ইফতিও ঠিক তাই।
সে রাতে সবাই মিলে টিভিতে খেলা দেখসিলো। bengali love story তখনই রিফাতের ফোন। বিয়ের আজ ১৭ দিন চলছে।
সে ফোন করেই বলল
- নিচে নাম দোস্ত … আমি তোর বাসার নিচে।
ইফতি সবার মধ্যে থেকে উঠে গেলো। সে বলল
- এখন আসতে পারবো না। খেলা দেখসি।
- দোস্ত প্লিজ। একটু কথা আছে।
ইফতি তার অনুরোধে বাধ্য হয়ে নেমে গেলো।
রিফাতের হাতে একটা ছুড়ি। ইফতি খানিকটা ভয় পেয়ে গেলো।
- কি ব্যাপার তোর হাতে ছুড়ি কেন?
- দোস্ত আমি তনুরে ছাড়া মইরা যামু। short stories in bengali এই ২৩ দিন আমি কেমনে কাটামু দোস্ত?
ইফতি রিফাতের এমন পাগলামি দেখে কিছু বলল না। রিফাত ছুড়িটা তার নিজের গলায় ধরে বলল
- আমি সত্যিই মরে যামু। তুই ওরে ধরস নাই তো এখনো?
-না।
- আমার কসম?
- আমি ওর হাতটা ধরি মাঝে মাঝে।
- কেন ধরস? আমি না তোরে মানা করসি?
- ও আমার স্ত্রী রিফাত। আমার ওর হাত ধরাটা কোন ভুল দেখি না।
রিফাত গলা থেকে ছুড়ি নামিয়ে নিজের হাতে একটা পোজ দিলো।
ইফতি রিফাতের হাত থেকে বের হওয়া রক্ত দেখে ঘাবড়ে গেলো। সে রিফাতকে তার এলাকার একটা ফার্মেসিতে নিয়ে গেলো। ড্রেসিং করানো শেষ হলে রিফাতকে সে আশ্বস্ত দিলো তনু কে সে আর স্পর্শ করবে না।
ইফতি রিফাতের হাত থেকে বের হওয়া রক্ত দেখে ঘাবড়ে গেলো। সে রিফাতকে তার এলাকার একটা ফার্মেসিতে নিয়ে গেলো। ড্রেসিং করানো শেষ হলে রিফাতকে সে আশ্বস্ত দিলো তনু কে সে আর স্পর্শ করবে না।
রিফাত খুশি মনে চলে গেলো। short stories in bengali ইফতি বসে রইলো ফার্মেসিতে। রিফাত চলে গিয়েছে কিনা সেটা ভালো মত দেখে ফার্মেসির লোকটা বলল
- এই পাগলরে কেমনে চিনেন?
- বন্ধু হয়।
- পাগল একটা। নিশা করতে করতে এহন আর কিচ্ছু বাকি নাই।
- ও নেশা করে?
- হ নেশা করে। মাঝে মাঝে ওর বৌটারে পিটায়া নিজেই নিয়া আইতো এইহানে। কইতো বেন্ডেজ করেন মামা।
- মাইয়াডা খালি কানত। একদিন আমিই অই মাইয়ার বাপেরে ডাইকা কইলাম মাইয়ারে বাঁচাইতে চাইলে নিয়া যান।
-তারপর?
- তারপর নিয়া গেলো। মাইয়াও এই এলাকারই।
- হুম।
ইফতি বাসায় চলে গেলো। তার কাছে সব এলোমেলো লাগছে। bengali love story সে কি আসলে ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তনু কি রিফাতের কাছে নিরাপদ? ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসলো।
তনু ইফতিকে দেখে দৌড়ে আসলো।
- কি হইসে? কই গেসিলেন? ফোন দিচ্ছিলাম ধরেন না। ওমা রক্ত কিসের?
ইফতি খেয়ালই করে নাই তার শার্টে রক্তের দাগ লেগে আছে।
- কিছুনা। একটা লোক ব্যাথা পেয়েছিলো তাকে নিয়ে ফার্মেসিতে গিয়েছিলাম।
- কে? উনি ঠিক আছে এখন? bangla story কেমন করে ব্যাথা পাইলো?
ইফতি কিছু বলতেই নিচ্ছিলো তখন তার মা এসে হাউমাউ করে কান্না জুড়িয়ে দিলো
- এই তুই কই গেসিলি? আমার কলিজা ধরফর করতাসিলো, বৌ ফোন দিসে ধরস নাই কেন?
ইফতি কারো উত্তর না দিয়ে ঘরে চলে গেলো। আজ সে সিগারেট খাচ্ছে না। রাতে তনু কয়েকবার খাওয়ার জন্য ডাকলেও ইফতি উঠলো না।
সে শুয়েই রইলো। তনু এসে তার মাথায় হাত দিলেই সে চমকে বলল
- না লাগবে না। আমি ঠিক আছি।
- আপনি ঠিক নাই। আপনাকে মোটেও ঠিক লাগছে না। সব ঠিক আছে তো?
ইফতির কেন যেনো খুব অসহায় লাগছিলো। short stories in bengali সে তনুর কাছে সব বলতে চায়। কিন্তু পারছে না। তনুকে হারানোর ভয় কাজ করে এখন।
- হুম ঠিক আছে।
- যাওয়ার সময় সামনে আসছে বলে খারাপ লাগছে?
ইফতি আবারো চমকে উঠলো।
- কার যাওয়ার?
-ওমা আপনার। বিদেশে ফিরে যাওয়ার।
ইফতি ভেবেছিলো তনু সব জেনে গিয়েছে এবং সে তার ফিরে যাওয়ার কথা বলছে।
ভয়ের মধ্যে হলেও দিন কেটে যাচ্ছিলো। প্রায় প্রতিদিন রিফাত ফোন করে কান্নাকাটি করতো।
এর মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মধুর কোন মিলন তাদের এখনো হয় নি। রিফাতের কথা মোতাবেক ৩৯ দিনের মাথায় বিছানায় নিতে হবে তনুকে।
এর মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মধুর কোন মিলন তাদের এখনো হয় নি। রিফাতের কথা মোতাবেক ৩৯ দিনের মাথায় বিছানায় নিতে হবে তনুকে।
ভালো দিনগুলো বোধহয় তাড়াতাড়ি ই শেষ হয়ে যায়। তেমনটাই হলো।
আজ বিয়ের ৩৯ তম দিন।
এর মধ্যে তনু ইফতির সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি।
ইফতি তনুকে ভালোবাসা শুরু করেছে।
কেনইবা বাসবে না? ওকে ভালো না বেসে থাকা যায়?
আজ বিয়ের ৩৯ তম দিন।
এর মধ্যে তনু ইফতির সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি।
ইফতি তনুকে ভালোবাসা শুরু করেছে।
কেনইবা বাসবে না? ওকে ভালো না বেসে থাকা যায়?
সেদিন সন্ধ্যায় ইফতির ভয় করসিলো। কাল ৪০ দিন। bangla story যে কোন সময় রিফাত এসে তনুকে দাবী করবে। তনু সব সত্য জানবে। ছি! কি বাজে একটা অবস্থার সৃষ্টি হবে ভাবা যায়?
ভাবতেই ফোনটা বেজে উঠলো।
ম্যাসেজ এসেছে - "নিচে নাম। কথা আছে।"
ম্যাসেজ এসেছে - "নিচে নাম। কথা আছে।"
ম্যাসেজ পাঠিয়েছে রিফাত। ইফতি দৌড়ে নেমে গেলো। কাউকে কিছু বলল না। তনু দেখতে পেলো ইফতি ফোন বাসায় রেখেই নেমে গিয়েছে।
ইফতি নিচে নামতেই রিফাত তার হাতে একটা কনডমের প্যাকেট ধরিয়ে বলল
- এটা রাখ। আমি চাই না তনুর পেটে আবার তোর বাচ্চা কাচ্চা থাকুক। এইসব আমি মাইনা নিতে পারবো না।
ইফতি আহাম্মকের মত তাকিয়ে বলল
- এটা কেমন কথা? তুই কি সেন্সে আছিস?
- হ তোরা আজকে ফুলসজ্জা করবি। পেটে একটা বাচ্চা দিয়ে দিতেই পারিস। তাই প্রটেক্টশন দিয়ে দিলাম। কালকে তুই ওরে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাবি। short stories in bengali আমি কি করুম? তোর বাচ্চা পালুম?
ইফতি প্যাকেটটা রিফাতের মুখে ছুড়ে মেরে দাড়িয়ে রইলো। অনেক্ষণ পর বলল
- বাসায় যা। পরে কথা হবে।
তাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পর ইফতি বাসায় উঠলো।
বাসায় নিজের ঘরে ঢুকতেই সে দেখলো তনু তার সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে সিগারেট খাচ্ছে। বাতি বন্ধ। তার চোখে পানি তা বাইরের আলোয় বোঝা যাচ্ছে।
ইফতি তনুর সামনে এসে বলল
ইফতি তনুর সামনে এসে বলল
- কি করছো এসব?
তনু অনেক মায়া ভরা চোখে ইফতির দিকে তাকিয়ে উঠে দাড়ালো। bengali love story দাড়িয়েই শাড়ির আঁচল বুক থেকে সরিয়ে বলল
- নেন যা করার করেন। আজই তো আপনার শেষ দিন।
হ্যাঁ তনু যখন ইফতির মোবাইল দিতে সাথে সাথে নেমে যায়। তখন সে নিজের কানে ইফতি ও রিফাতের কথোপকথন শুনে।
ইফতির বুঝতে বাকী রইলো না তনু সব জেনে গিয়েছে।
খুব কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা। ধরফর করছে একরকমের। ইফতি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো। সে খুব নিম্নস্বরে বলল
খুব কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা। ধরফর করছে একরকমের। ইফতি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো। সে খুব নিম্নস্বরে বলল
- আমি তোমাকে সবই বলতাম।
তনু এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো
- কবে বলতেন? আমাকে তালাক দেওয়ার দিন? হায়রে পুরুষ জাত? bangla story এর চেয়ে মেরেই ফেলতেন আমাকে। আর কিভাবে ভাবলেন আপনি ছেড়ে দিলেই আমি ওর কাছে আবার ফিরে যাবো?
- রিফাত তোমাকে অনেক ভালোবাসে। আর তুমিও …………
- আমিও? আমিও কি? হুম? এত সস্তা? আমি তো এই সংসারকে ভালোবাসি … আমি আপনাকে ভালোবাসি … আপনি এতদিনে তাও বুঝলেন না?
ইফতির কেন যেন এত কিছুর মাঝেও খুব ভালো লাগছে কথাটা শুনে। খুব শান্তি পাচ্ছে সে। সে তনুকে বলল
- তুমি প্লিজ ঠান্ডা হও।
- ঠান্ডা হওয়ার মত কি ঘটেছে ইফতি? কই আসেন আপনার বন্ধুর কথা মোতাবেক আপনার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করেন।
ইফতি নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। short stories in bengali এই প্রথম তার চোখ দিয়ে পানি বের হলো। এর আগে মায়ের হাতের মার খেয়েও কোনদিন সে কাঁদে নি।
৪০ দিন শেষ ………………………
রিফাত ফোন করেই যাচ্ছে। ইফতি তাকে ব্লক করে রেখেছে তাই নাম্বার ব্যস্ত দেখাচ্ছে।
না পেরে সে উপরেই উঠে আসলো বাসার। এসে দেখলো ঘরে কাজী বসে দুজনের বিয়ে পরাচ্ছেন ……… এই বিয়ের উদ্দেশ্য এবার নেক।
ইফতি তওবা করলো। সে আবার সহী করে তনুকে বিয়ে করলো।
না পেরে সে উপরেই উঠে আসলো বাসার। এসে দেখলো ঘরে কাজী বসে দুজনের বিয়ে পরাচ্ছেন ……… এই বিয়ের উদ্দেশ্য এবার নেক।
ইফতি তওবা করলো। সে আবার সহী করে তনুকে বিয়ে করলো।
সে রাতে ইফতি তনুর কাছে মাফ চেয়ে নেয়। আরেকবার সুযোগ চায়। bangla story আরেকটাবার সে তার দায়িত্ব সঠিকরূপে নিতে চায়। সে জানায় সেও এই ৪০ দিনে তনুকে ভালোবেসে ফেলেছে। তনুর মুখে তার প্রতি ভালোবাসা শুনে সেও সেদিন বলেই ফেলল।
রিফাত কোন ঝামেলা করার আগেই দেখলো তাদের ঘরে দুজন কনস্টেবল বসে আছেন। রিফাত এর নামে ইফতি নিজেই মামলা করলো।
রিফাতকে বন্দী করা হলো।
রিফাতকে বন্দী করা হলো।
রিফাত এতটাই নেশাগ্রস্ত ছিলো যে কিছুদিন পর জেলখানায় নেশা না করতে পেরে আত্মহত্যা করলো।
তনু? সে এখন অনেক ভালো আছে। ইফতি চলে গিয়েছে। তাকেও নেওয়ার ব্যবস্থা চলছে।
অনেক ভালোবাসা তাদের মধ্যে। ইফতি কখনোই ভাবে নি সে কাউকে এভাবে ভালোবাসবে। তনু কখনো কল্পনাও করেনি তাকে কেউ এভাবে ভালোবাসবে।
অনেক ভালোবাসা তাদের মধ্যে। ইফতি কখনোই ভাবে নি সে কাউকে এভাবে ভালোবাসবে। তনু কখনো কল্পনাও করেনি তাকে কেউ এভাবে ভালোবাসবে।
তারা ভালো আছে। তারা ভালো থাকুক।
রিফাতের মত যাদের নিয়ত খারাপ তারা যেন কখনোই সফল না হয়।
রিফাতের মত যাদের নিয়ত খারাপ তারা যেন কখনোই সফল না হয়।
(হালালা নিকাহের ইসলামে নিয়ম আছে। তবে সে যদি বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে বিয়ে করে তাহলে তা সহী হয় না। আর আমার কথা হলো হালালা নিকাহ করারই কি প্রয়োজন? যাকে ভালোবাসবেন, যে আপনার স্ত্রী ছিলো তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় মায়া লাগে নি। তো তাকে আবার পাওয়ার আশা কেন? bangla story মেয়েরা তো পুতুল না। যখন চাইবেন খেলবেন। যখন চাইবেন ফেলে দিবেন। ইচ্ছে হলে আবার তাকে বুকে টেনে নিবেন। মেয়েরাও মানুষ ……… তাদেরও কষ্ট আছে। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন)
bengali love story
© Jakia Juliet
August 19, 2019
Tags :
গল্প
Subscribe by Email
Follow Updates Articles from This Blog via Email

No Comments