Welcome

Here You Get Bengali Stories
thumbnail

মায়ার সংসার

অভিমানী নিশাদ







                                bengali love story 
----এই যে শুনুন আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই নি।
----তাহলে বিয়ে করলেন কেনো? short stories in bengali 
----বাবার মুখের দিকে চেয়ে, বাবা হার্টের রোগী তাই বাধ্য হয়ে রাজি হয়েছি,আপনাকে আমি স্বামী হিসাবে কখনোই মানতে পারবো না।
----আচ্ছা ঠিক আছে সমস্যা নেই,আমি জোর করবো না।
----হুম ধন্যবাদ।
----পরিচয় দেই, আমার নাম আকাশ আর ও আমার ছেলে আয়াজ,আর আয়াজ উনি তোমার..
....bangla story
----আন্টি,আমায় মোটেও মা বলে ডাকবে না,আমার এতটাও খারাপ দিন আসেনি যে একটা বুড়ো লোক কে বিয়ে করে রেডিমেড বাচ্চার মা হবো।
----তাহলে কি চান আপনি?
----এখন আপাতত কিছুদিন এখানে থাকবো,তিনমাস পর আমায় ডিবোর্স দিবেন,আমি বাবাকে বলবো আপনি মদ খান আর আমায় প্রায় ই মারধোর করেন তাই আমি বাধ্য হয়ে চলে এসেছি, বাবাকে আমি ম্যনেজ করবো।
----জ্বী আচ্ছা সেটাই হবে।
----হুম গুড,আর হ্যঁ শুনুন আমি যতদিন এ বাসায় থাকবো ততদিন আমার রান্না আমি করবো,আমার কাজ আমি করবো আর আপনার ও আপনার ছেলের কাজ আপনি করবেন,আমি এই ঘরেই থাকবো আর আপনি ও আপনার ছেলে ওই ঘরে বুঝেছেন।
----(চশমা নাকের উপর ঠেলে)জ্বী বুঝেছি।
---তাহলে খাম্বার মত দাড়িয়ে আছেন কেনো?ঘুমাতে কি দেবেন না?আমি ফ্রেশ হয়ে ঘুমাবো এখন,সারাদিন অনেক ধকল গেছে।আর হ্যঁ ঘুমের মধ্যে ডাকাডাকি করবেন না বলে দিচ্ছি।
----যাচ্ছি, আয়াজ আয় বাবা।
----গুড নাইট।  bengali love story
বলে ঠাশ করে দরজা লাগিয়ে দেয় রিয়া।
.
আকাশ ও তার পাচঁ বছরের ছেলে আয়াজ পাশের রুমে চলে আসে।আয়াজের জেদ ও অফিসের সিনিয়র অফিসার রায়হান সাহেবের পীড়াপীড়িতে short stories in bengali  বাধ্য হয়ে তার মেয়ে রিয়া কে বিয়ে করেছে আকাশ।আয়াজের জন্মের ছয় মাসের মাথায় সামিয়া মারা যায়,এতটুকু ছেলেকে ছোট থেকে ও নিজেই মানুষ করেছে,, বিয়ে করার কথা ভাবে নি,কারন যদি সৎ মা আয়াজকে কষ্ট দেয়??ঠিকমতো যত্ন না নেয়?তাই ও বিয়ে করতে চায় নি,,,আর সামিয়াকে ও এখনো ভুলতে পারে নি।কিন্তু কিছুদিন ধরে আয়াজ মা মা করে জেদ করছিলো আর রায়হান সাহেবও বারবার অনুরোধ করছিলো তাই বিয়েটা করতেই হলো আকাশের।কিন্তু মেয়েটা যে এমন করবে সেটা ও ভাবতেও পারে নি,অন্তত ওর ছেলেটাকে তো কাছে রাখতে পারতো কিন্তু সেটাও করলো না।এতটুকু বাচ্চা ছেলেটার মনে কষ্ট দিলো?কিন্তু পরে আকাশ ভাবলো যে মেয়েটার কি ই বা দোষ,কোন মেয়ে ই বা চায় রেডিমেড বাচ্চার মা হতে আর ত্রিশ বছরের কোন বিবাহিত লোককে বিয়ে করতে?তাই রিয়ার দোষ দিতে পারলো না আকাশ,নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ছেলেকে নিয়ে বিছানায় গেলো,ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল.....
----কিরে রাগ করেছিস নতুন মায়ের কথা শুনে?
----না বাবা,রাগ করবো কেনো?নতুন মায়ের কথাগুলি খুব ভালো লেগেছে আর নতুন মাকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। bangla story
----কিরে মনে হচ্ছে নতুন মায়ের ভক্ত হয়ে গেছিস
----হুম ঠিক তাই,কেন বাবা তোমার পছন্দ হয় নি নতুন মা কে?
----যেভাবে শাসালো পুরো হিটলারনী,একেবারে ঝাল লঙ্কা!!!পছন্দ হলেই বা কি।
----বাবা মার সামনে এটা বললে কিন্তু মা তোমায় আস্ত চিবিয়ে খাবে।
----সামনে বলে নিজের দুর্ভাগ্যকে ডাকতে চাই না,বাব্বাহ!!!মেয়ে তো না একেবারে হিটলারনী।
----বাবা যা ই বলো নতুন মা কে আমার ভালো লেগেছে।
----তোকে তো মা বলতে নিষেধ করেছে তারপরও কেনো বলছিস বাবা।
----সামনে তো আর বলবো না।
----বাবা এত মায়া বাড়াস নে,পড়ে কষ্ট পাবি ও চলে গেলে।
----না বাবা নতুন মা যাবে না,তুমি দেখে নিও।
----কিভাবে বুঝলি?
----তা জানি না,মা যাবে না,কখনোই না।
----আচ্ছা দেখা যাবে এখন ঘুমা।  bengali love story
বলে আকাশ আয়াজ ঘুমাতে গেলো,এর আগে কিছুক্ষণ গল্প করে তাদের ঘরে আসা নতুন সদস্য রিয়া কে নিয়ে,,,পাশের ঘরে থাকা রিয়া জানতে পারলো না তার জন্য দুটি হৃদয়ের ছোট্ট কুঠুরিতে পাহাড় সমান ভালোবাসা আর মমতা জমা হচ্ছে তার জন্য।
.
পরদিন সকালে শুরু হলো তাদের তিনজনের অদ্ভুদ সংসার।সকালে ঘুম থেকে ওঠে রিয়া দেখলো আকাশ ও আয়াজ যে যার মতো চলে গিয়েছে।তাকে কেন ডাক দেয় নি?পরে মনে পড়লো সে নিজেই তো ডাকতে নিষেধ করেছিলো তাই হয়তো ডাকে নি।রিয়া ওঠে ফ্রেশ হয়ে তার জন্য নাস্তা বানালো, নাস্তা খেয়ে নিজের ঘর গুছিয়ে রান্না করতে গেলো নিজের জন্য।দুপুরে গোসল করে খাওয়া-দাওয়া করে একটু ঘুমালো।
বিকালে রিয়ার ঘুম ভাঙ্গে ফোনের রিংটোনের আওয়াজে,, ফোন ধরে বিরক্তিকর কন্ঠে সে বলে...
----হ্যলো কে? bangla story
----আন্টি আমি আয়াজ।
----হ্যঁ বলো কেনো ফোন দিয়েছো?
----আন্টি তুমি দুপুরে খেয়েছো?
----হ্যঁ,তুমি খেয়েছ?আর কখন বাসায় আসবে?
----জ্বী আন্টি খেয়েছি, আমি আর বাবা একসাথেই আসবো,আমি তো ছোট মানুষ তাই একা আসতে পারি না তাই বাবার সাথেই আসবো।বাবা ই সবসময় আমায় দিয়ে আসে আর নিয়ে আসে।তুমি ভয় পেয়ো না আন্টি।
----ভয় পাবো কেনো?আমি কি ছোট নাকি?
----এমনি ই বললাম আন্টি,আচ্ছা রাখি আন্টি বাই।
----ওকে বাই।
.bangla story
বিকালে অফিস শেষে বাবা ছেলে একসাথে বাসায় ফিরে আসে।বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে আকাশ তার ও ছেলের জন্য রান্না করতে লাগলো।সামিয়া মারা যাওয়ার পর থেকে ও নিজেই রান্না করে খায়,বুয়া রাখে নি।তাই অভ্যাস আছে।
নিজেদের রান্না শেষ করে কফি বানিয়ে টিভির ঘরে গিয়ে টিভি দেখতে লাগলো।রিয়াকে একটুও বিরক্ত করে নি দুজনে।কিছুক্ষণ পর আয়াজ গিয়ে রিয়ার ঘরের দরজায় টোকা দেয়।
---আন্টি ঘরে আছো?
----কে?
----আন্টি আমি আয়াজ। short stories in bengali 
----ও তুমি, এসো।
আয়াজ ঘরে ঢুকে রিয়ার দিকে কফির মগটা এগিয়ে দেয় আর বলে...
----বাবা এটা তোমায় দিতে বললো,তাই এলাম।
----আচ্ছা রেখে যাও,আমি খেয়ে নেবো।
----ওকে আন্টি।
বলে আয়াজ চলে যায়।রিয়া কফিতে চুমুক দেয় আর বাবা ছেলের কথা ভাবে।ছেলে একদম বাপের জেরক্স কপি,চুপচাপ, চশমা পড়ে।সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে, কে বলবে এই ছেলের মা নেই।হঠাৎ আয়াজের জন্য বুকে এক অজানা মায়া অনুভব করে রিয়া।
.bangla story
রাতে খাওয়া-দাওয়া করে রিয়া ও আকাশ নিজেদের ঘরে ঘুমাতে যায়,,ঘুমানোর আগে আকাশ ও আয়াজের ঘর থেকে হাসির আওয়াজ আসছে দেখে কৌতুহলবশত: আকাশের ঘরে উকি দেয়,, দেখে আকাশ আয়াজকে কোলে নিয়ে গল্প করছে ও সুড়সুড়ি দিচ্ছে আর আয়াজ হেসে গড়িয়ে পড়ছে।বাবা ছেলের এমন হাসি দেখে রিয়ার ঠোটেঁও এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
. bengali love story
এভাবেই চলছিলো তাদের জীবন।আকাশ ও আয়াজ ভুলেও রিয়াকে বিরক্ত করতো না,নিজেদের মত থাকতো,নিজেদের কাজ নিজেরাই করতো,বাবা ও ছেলে কিভাবে এতটা গুছানো স্বভাবের হতে পারে এটা ভেবে রিয়া প্রায় ই অবাক হয়।রাতে মাঝে মাঝে আকাশের ঘরের দরজায় কান পেতে বাবা ছেলের গুটুর গাটুর কথা আর প্রানখোলা হাসি শোনে রিয়া,,,তখন ওরও মন চায় ওদের সাথে যোগ দিতে কিন্তু কোথায় যেন একটা বাধা পায় রিয়া,সেটা ও নিজেও বুঝতে পারে না।
একদিন রাতে রিয়াকে খাবার টেবিলে না দেখে আকাশ আয়াজকে বলে তার নতুন মা কে ডেকে আনতে(কারন তারা নিজেদের রান্না আলাদা করে করলেও খাবার টেবিলে একসাথেই খেতো)।আয়াজ গিয়ে তার নতুন মা কে ডাক দেয় কিন্তু রিয়া উত্তর না দিয়ে বিরবির করে কি যেন বলতে থাকে।আয়াজ সেটা বুঝতে না পেরে রিয়ার হাত ধরে উঠানোর চেষ্টা করে চমকে যায় কারন জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে রিয়ার,সাথে সাথে আয়াজ ওর বাবাকে ডাকে,আকাশ ছেলের ডাক শুনে রিয়ার রুমে যায় ও গিয়ে আয়াজকে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে?আয়াজ তার বাবাকে বলে নতুন মায়ের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।আকাশ রিয়ার হাত ধরবে কি না দ্বিধায় পড়ে যায় কারন রিয়া তাকে স্বামীর অধিকার দেয় নি,অনেক ভেবে রিয়া অসুস্থ বলে বাধ্য হয়ে ওর হাত ধরে ও ভাবে পড়ে এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নেবে।ওর হাত ধরে দেখে সত্যি মেয়েটার গায়ে অনেক জ্বর।সাথে সাথে আকাশ বালতি দিয়ে পানি নিয়ে এসে রিয়ার মাথায় ঢালতে থাকে ও আয়াজ ভেজা কাপড় দিয়ে রিয়ার মাথায় জলপট্টি দিতে থাকে।প্রায় অনেকক্ষণ এভাবে পানি ঢালা ও জলপট্টি দেয়ার পর রিয়ার জ্বর একটু কমে আসে।আকাশ বারবার আয়াজকে ঘুমাতে যেতে বললেও আয়াজ যায় নি,সে তার নতুন মায়ের এই অবস্থায় তাকে একা রেখে যাবে না বলে গোঁ ধরে রিয়ার পাশেই বসে থাকে,আকাশও আর কিছু বললো না আয়াজকে। short stories in bengali 
.bangla story
এভাবে রাত কেটে যায়,ভোর হলে রিয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায়,চোখে মেলে দেখে আকাশ চেয়ারে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে ও আয়াজ তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে,,,নিচে পানির বালতি ও ভেজা কাপড় দেখে বুঝতে পারলো কাল তার কি হয়েছিলো।সারারাত বাবা ও ছেলে তার সেবা করেছে এটা ভাবতেই ওর মনটা কেমন যেন করে ওঠলো?যে মানুষটাকে ও স্বামী বলে মানে নি,ছুতেওঁ দেয় না সে মানুষটা সারারাত ধরে তার মাথায় পানি দিয়েছে?তার সেবা করছে?যে নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে রিয়া রেডিমেড বাচ্চা বলে মা বলে ডাকতে দেয় নি,দুরে সরিয়ে রেখেছে সে বাচ্চাটাও তার জন্য রাত জেগেছে?এতটুকু বাচ্চার মনে তার জন্য এতোটা ভালোবাসা দেখে রিয়ার চোখ ভিজে যায়,মনের অজান্তে আয়াজের কপালে ছোট্ট একটা চুমু একেঁ দেয় রিয়া।
এরপর রিয়া আকাশকে ডাক দেয়,ওর ডাক শুনে আকাশ ধড়মড় করে জেগে ওঠে ও চশমা ঠিক করে মাথা নীচু করে জিজ্ঞেস করে.....
----এখন কেমন বোধ করছেন?
----জ্বী এখন ভালো।
----আচ্ছা এখন বিশ্রাম নিন,আমি নাস্তা তৈরি করে আনছি আর ঔষধ এনে দিচ্ছি।
----জ্বী আচ্ছা।
----আর শুনুন আজ আপনাকে রান্না করতে হবে না,আমি ই রান্না করবো দুপুরে এসে, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে চলে আসবো।আপনি রেষ্ট নিন।
----আচ্ছা।
এটা বলে আকাশ আয়াজকে ডেকে তোলে ও নাস্তা রেডি করে রিয়ার ঘরে পাঠিয়ে দেয় ও আয়াজকে স্কুলে না পাঠিয়ে রিয়ার কাছে রেখে যায় যেন কিছু হলে সাথে সাথে আকাশকে জানাতে পারে।সবকিছু ঠিক করে আকাশ অফিসে চলে যায়।  bengali love story
.
আকাশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আয়াজ গুটিগুটি পায়ে গিয়ে রিয়ার ঘরের দরজায় টোকা দেয়...
----আন্টি ভিতরে আসতে পারি?
----হ্যঁ এসো। bangla story
----এখন কেমন আছো আন্টি?সরি তুমি করে বলে ফেললাম।
----না ঠিক আছে তুমি করেই বলো,এখন মোটামুটি সুস্থ।
----তাহলে এখন নাস্তা করে নাও আন্টি,খেয়ে ঔষধ খেয়ে নাও,আমি পরে আসছি।
----না না তোমার যেতে হবে না,তুমি বসো সমস্যা নেই।
----ওকে আন্টি।
----তুমি নাস্তা করেছো?
----জ্বী আন্টি বাবার সাথে করেছি।
----গুড বয়।
----আচ্ছা আন্টি একটা কথা বলি?
----হ্যঁ বলো।
----জানো আন্টি আমি মা কে কখনো দেখিনি,মায়ের আদর কেমন হয় তা আমি জানি না,স্কুলে যখন সব বাচ্চার মা তাদের ছেলে মেয়েকে নিয়ে যায় তখন আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ে,মা আজ বেচেঁ থাকলে আমায়ও ঠিক এভাবে স্কুলে নিয়ে যেত।খুব খারাপ লাগে আমার,কিন্তু বাবা কখনো মায়ের অভাব বুঝতে দেয় নি,আমার কাছে বাবা ই আমার মা,কিন্তু তারপরও মায়ের জন্য একটা শূন্যতা ও টান অনুভব করি।আজ মা থাকলে আমিও ওদের মত আদর পেতাম,মা বলে ডাকতে পারতাম কিন্তু সেটা হয়তো আর হবে না আন্টি........
ছোট্ট বাচ্চার মুখে এসব শুনে রিয়ার মনটা কেদেঁ ওঠে,এতটুকু একটা ছেলে এতকিছু বুঝে,কত গুছিয়ে কথা বলে।ছেলেটা মায়ের জন্য কতটা ব্যকুল তা অনুভব করে রিয়া,এই নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে সে কিভাবে কষ্ট দিলো এটা ভাবতেই ওর কান্না আসছে,,, কোনমতে নিজেকে সামলে বললো.....
----মন খারাপ করো না,আমি তো আছি।
---তুমি তো আন্টি,আমার না নও।
----আন্টি তাতে কি, আমায় মায়ের মত ভালোবাসতে পারবে না?
---হুম আন্টি পারবো।
---এই তো গুড বয়।
বলে আয়াজকে কাছে টেনে নেয় ও নিজের হাতে নাস্তা খাইয়ে দেয়,খাওয়ানোর সময় দেখে আয়াজের চোখ থেকে পানি পড়ছে,তা দেখে রিয়া বলে.....
----কি আয়াজ কাঁদছো কেনো?
----আন্টি আমায় কখনো এভাবে কেউ খাইয়ে দেয় নি,আদর করে কাছে টেনে নেয় নি,তুমি এমন করে খাওয়াচ্ছো আর আদর করছো তাই মায়ের কথা মনে পড়ে গেলো,মা থাকলে আমায় ঠিক এভাবেই আদর করে খাইয়ে দিত আর আদর করতো,,বলে চোখের পানি মোছে আয়াজ।
আয়াজের কথা রিয়ার মনটা মমতায় ভরে যায়,এইটুকু বাচ্চা ছেলে কিভাবে মা ছাড়া বড় হলো,কিভাবে থাকে মা কে ছাড়া...ওর মনে তখন মমতা জাগ্রত হয় আয়াজের জন্য,আয়াজকে কাছে টেনে আদর করে তার কপালে চুমু দেয় আর বলে আমি তো আছি,কান্না করো না। short stories in bengali 
.
আকাশ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বিকালেই চলে আসে,এসে ফ্রেশ হয়ে রান্না বসায়।রান্না শেষ হলে আয়াজকে দিয়ে রিয়াকে খেতে ডাক দেয় আকাশ,রিয়া এলে আকাশ তার শারীরিক অবস্থা জিজ্ঞেস করে আর এখন কেমন বোধ করছে সেটা জানতে চায়।রিয়া বলে সে এখন সুস্থ আছে আর ভালো বোধ করছে।
খাওয়া শেষ হলে রিয়া ঔষধ খেয়ে বিশ্রাম নেয় ও কিছুক্ষণ ঘুমায়,সন্ধ্যায় ওর ঘুম ভাঙ্গে।রিয়ার ঘুম ভাঙলে আজও আয়াজ এসে তাকে কফি দিয়ে যায় ও এখন কেমন আছে সেটা জানতে চায়,রিয়া বলল সে এখন পুরোপুরি সুস্থ।
রাতে খাওয়ার পর যথারীতি আকাশ ও আয়াজ তাদের রুমে চলে যায়,কিছুক্ষণ পর রিয়া চুপিচুপি তাদের রুমে যায় ও দরজায় কান পেতে ওদের কথোপকথন শোনে।কথাগুলি শুনে আকাশ ও আয়াজের জন্য ওর মায়া হয়,নিজের ঘরে এসে অনেক কিছু চিন্তা ভাবনা করে রিয়া ,,,,আকাশকে স্বামীত্ব ফলাতে না বলায় আকাশও ওকে জোড় করে নি,বিরক্ত করে নি,যা যা বলেছে সেটাই করেছে, ছোট্ট বাচ্চাটাও ওর কথা শুনেছে।
সবকিছু আলাদা করেছে,নিজেদের গুছিয়ে রেখেছে,ওর সেবাও করেছে।ওদের এই ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মানবোধ রিয়ার মনকে নরম করে দেয়,মনে মায়া ও মমতার জন্ম দেয়,রিয়া ঠিক করে সে যতদিন এখানে আছে ততদিন ঘরের সব কাজ ও নিজে করবে,আয়াজকে নিজে স্কুলে দিয়ে আসবে,রান্না ও নিজে করবে।
.bangla story
এসব ভেবেও কেন জানি এগুলো করতে পারছিলো না রিয়া,,,এরপরের বেশ কয়েকদিনও একই ঘটনার
পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলো।রিয়ার কথামত
আকাশ আর আয়াজ দুজনের কেউই ওকে কোনরকম
বিরক্ত করতো না, দুজনের এই নির্লিপ্ততা
রিয়াকে প্রথমে স্বস্তি এনে দিলেও আজ সেটা
ওর রাগের কারন হয়ে ওঠলো,,সারাদিন নিজের জন্য রান্না করা বাদে দুহাত
গুটিয়ে অথর্বর মত বসে থাকা ছাড়া ওর
কোন কাজ নেই। ওর মেজাজ বেশি
বিগড়াতো তখন, যখন বাপ আর ছেলের গুটুর
গুটুর গল্প আর পেট ফাটানো হাসির শব্দ শুনে রিয়া কৌতুহলী হয়ে সামনে দাড়াতেই
দুজনই চুপ মেরে যেত। এমন ভাব ধরত যেন পেটে
বোমা মারলেও মুখ দিয়ে কিছু বেরুবে
না। কিন্তু রিয়া আড়াল হওয়ামাত্র আবারও  bengali love story
হা হা হি হি হো হো শুরু হতো।
.
এসব দেখে রাগে পরেরদিন সকালে নাস্তার টেবিলের সামনে দাড়িয়ে রিয়া রাগী গলায় ঘোষনা
করলো,,,,,,
‘‘আমি যতদিন এ বাড়িতে আছি
কাল থেকে ততদিন পর্যন্ত সকালের
নাস্তা থেকে শুরু করে ঘর গোছানো, রান্না করা,কাপড় ধোয়া আমি
করবো,,, আয়াজকে স্কুল থেকে নিয়ে আসবো,,,
আমি টিভি দেখি আর নাই দেখি টিভির
রিমোট আমার হাতে থাকবে আর তোমাদের
দুজনের যত গাটুর গুটুর আলাপ আছে তা শুনি
আর নাই শুনি আমার সামনেই হতে হবে।
আর আয়াজ আজ থেকে তুমি আমার সাথে
ঘুমুবে।’’ bangla story
একথা শোনার আধ ঘণ্টার মাঝেই আয়াজ পার্টি বদল করে বাবার ঘর থেকে ওর
ব্যাগ পোটলা গুছিয়ে লাফাতে লাফাতে
রিয়ার ঘরে চলে গেলো।
short stories in bengali 
তিনমাস পূর্তির দিনগুলো এরপর যেন দ্রুতই
কাটতে লাগলো। বাবা ছেলের
নির্লিপ্ততা ও বোবা অভিনয়ের আড়ালে
জমিয়ে রাখা ভালবাসাগুলো রিয়াও টের
পাচ্ছিলো অনেক দ্রুততায়। এই দুটো
মানুষের যত গল্প হাসি চিন্তা স্বপ্ন সবই যে রিয়াকে
ঘিরে তা জানার জন্য মাঝে মাঝেই
দরজায় কান পেতে থাকতে হতো,আয়াজ
আকাশের সাথে কথা বলার সময় রিয়াকে যে
গভীর
মমতা ও মায়া নিয়ে মা বলে ডাকে তা শুনে রিয়ার মনেও মমতা জাগ্রত হয়,দিনে একবার শাড়ির আচলঁ কোমড়ে পেচিয়েঁ আকাশের সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া না করলে
রিয়ার দিন টা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। টিভিতে
খেলা দেখার সময় সবসময়ের বাবার
পক্ষের দলকে সাপোর্ট করা আয়াজ যখন
নানান অজুহাতে রিয়ার পক্ষে বাবার সাথে তর্ক করে রিয়া
তখন শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আয়াজকে।
এইটুকুন বাচ্চা রোজ রাতে যখন ঘুমের ভান
করে অপেক্ষায় থাকে রিয়া ঘুমিয়ে পড়ার
পর তার গায়ে আলতো করে হাত রাখবে,
এটা দেখে রিয়ার চোখে তখন ভালবাসার মেঘেরা
ভীড় করে।
প্রতিদিন আয়াজকে স্কুল থেকে আনতে
গিয়ে অপেক্ষায় থাকা রিয়া যখন সকলের মুখে
আয়াজের বলা কথা ‘‘আমার মা ই পৃথিবীর সেরা
মা’’ শুনে আক্ষেপ করে নিজের উপর। এই
ছোট্ট বাচ্চার হৃদয়ে রিয়ার জন্য এত ভালবাসা কিভাবে
ও সাথে নিয়ে চলে যাবে তাই
ভেবে ওর মনটা হাহাকার করে ওঠে,কান্নায় বুকটা ফেটে যায়।
.
অবশেষে তিনজন মানুষের আবেগের
অভিনয় করার দিন ফুরিয়ে আসলো।
আকাশ পরদিনের বাসের টিকিট কেটে এনে
রিয়ার হাতে দিল। সেদিন বর্ষার দিন ছিল।
সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি হলো,,,, প্রবল বর্ষনের
সাথে আয়াজ আর আকাশের চোখের জলও মিলে
মিশে একাকার হল সে রাতে।
.
চলে যাওয়ার মুহূর্তটা যতটা অস্বস্তিকর short stories in bengali 
হবে বলে রিয়া ভেবেছিল তেমন কিছুই হল
না। শুধু বাসে উঠতে গিয়ে টান লাগায় চমকে ফিরে
তাকিয়ে দেখল আয়াজ ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ ছলছল করে এক
হাতে ওর শাড়ির আঁচল খামচি দিয়ে ধরে
আছে। আকাশ মৃদু হেসে বলল, ‘‘আন্টির
দেরি হয়ে যাচ্ছে বাবা,,ওর কথায়
হাতের মুঠি থেকে শাড়ির আঁচলের
কোনাটা ছেড়ে দিল আয়াজ। বাসে ওঠে রিয়ার বাসটা চোখের আড়াল হতেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদতে লাগলো আয়াজ,আজ যে তার মা আবারো তাকে ছেড়ে চলে গেলো,,, আকাশও ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো কেননা সেও এতদিনে রিয়াকে ভালোবেসে ফেলেছিলো,,কিন্তু সেও আজ সামিয়ার মত একা করে চলে গেলো মায়া লাগিয়ে দিয়ে..অঝোরে কাঁদছে বাবা আর ছেলে।
.
রিয়াকে বাসে
তুলে দিয়ে কিছুক্ষণ কেদেঁ চোখের পানি মুছে আকাশ আয়াজকে নিয়ে পার্কে
গেলো,ভালো আইসক্রিম খাওয়ালো,নানা জায়গায় ঘুরলো,,, আজ অফিস ছুটি নিয়েছে আকাশ ,,,আয়াজকে
সাথে নিয়ে সারাদিন ঘুরবে বলে ,,এতে তার মনটা একটু হলেও ভালো থাকবে হয়তো।
.
সারাদিন বাইরে ঘুরে বিকেলে বাসায় ফিরতেই আকাশ ও আয়াজের চোখ
কপালে উঠলো,,ফ্ল্যাটের দরজার সামনের সিঁড়িতে
ব্যগ রেখে রিয়া বসে আছে,,ওদের দেখে চোখ মুছতে
মুছতে উঠে দাঁড়ালো ও,,শাড়ির আচলঁ কোমড়ে পেচিয়েঁ ধমকের সুরে বলল,
‘‘বাড়ি থেকে আপদ বিদায় করে দিয়েই বাপ বেটা
মিলে
সারাদিন মজা করে বেরুলে তাই
না? আকাশের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,, এই যে গাধা ফোন বন্ধ কেন তোমার"? কতশতবার নাম্বার
ডায়াল করেছি?’’সেটা কি দেখেছো একবারো???
হতভম্ব আকাশ পকেট থেকে মোবাইল বের
করে দেখলো সেটা বন্ধ হয়ে আছে।
আকাশ কাঁচুমাচু মুখে বলল, ‘‘কিভাবে যেন বন্ধ
হয়ে গেছে বুঝতে পারি নি,মনে হয় চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিলো,,কি ব্যাপার তুমি ফিরে
এলে কেনো?? কিছু কি ফেলে গিয়েছো?’’
রিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘‘গাধা
কোথাকার,,,আমি কি বলেছিলাম short stories in bengali 
আমাকে টিকিট কেটে এনে দাও? কেনো যাওয়ার সময় bangla story
আটকালে না আমাকে? তোমার কি অধিকার ছিলো না??একবার থেকে
যেতে বললে কি আমি খেয়ে ফেলতাম
তোমাদের?’’
এটা শুনেই ছোট্ট আয়াজ কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে রিয়াকে জড়িয়ে
ধরে বলল, ‘‘মা আমাকে রেখে আর কখনো যাবে
না তো?’’
রিয়াও ওকে আরও শক্ত করে ধরে বলল, ‘‘আমার
বাবাটাকে ছেড়ে আমি আর কখখনও
কোথথাও যাবো না,কোনদিনও যাবো না ,,, তোমার মা তোমায় একা রেখে কোথথাও যাবে না,,, অনেক হয়েছে, আর
কাঁদবে না বাবা।’’
রিয়ার কথাগুলি শুনে আকাশ চোখের জলে ঝাপসা হয়ে যাওয়া
চশমাটা খুলে মুছতে শুরু করলো।এটা দেখে রিয়া ধমক দিয়ে বলল,
‘‘এই যে গাধা, খালি হাতে ভেজা
চশমা মুছলে হবে? এদিকে আসো।’’আকাশ  bengali love story 
এগিয়ে যেতেই ওর হাত থেকে চশমা
নিয়ে রিয়া ওর শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছতে
মুছতে বলল, ‘‘আমার বাস ছেড়ে যাওয়ার
সাথে সাথে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে অমন
বাচ্চাদের মত ব্যাকুল হয়ে কাঁদছিলে
কেনো? ছেলের কান্না দেখে? নাকি এই
হিটলারনীর জন্য? বাসের
জানালা দিয়ে মাথা বের করে এই দৃশ্য
দেখে কি কোন মেয়ের চলে যাওয়ার
ক্ষমতা থাকে?’’
‘‘এতই যখন সব বুঝতে তাহলে চলে যাচ্ছিলে কেনো?’’
‘‘তুমি যেতে দিলে কেনো গাধা,আটকাতে পারলা না?’’
আয়াজও এক হাতে ওর মাকে ধরে অন্য হাতে চশমা short stories in bengali 
খুলে রিয়াকে বলল, ‘‘মা আমারটাও মুছে দাও।’’
ওর কথা শুনে আকাশ আর রিয়া হেসে
ফেললো।এদের ছেড়ে আর কখনো কোথাও যাবে না বলে স্থির করে রিয়া,,,কোথায় যাবে সে?? কারন এটা যে তার মায়ার সংসার..............
সুখে থাকুক আকাশ,রিয়া ও আয়াজের মায়ার সংসার,কানায় কানায় ভালোবাসা দিয়ে ভরে থাকুক ওদের জীবন.........



লিখাঃঅভিমানী নিশাদ
thumbnail

ধর্ষিতা


Atia_Adiba




                                          short stories in bengali অবাক হলাম যখন ফার্মেসি থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন এর বদলে মেয়েটি কনডম কিনলো!
আমি প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে মেয়েটার পিছু নিলাম। খানিকটা ইতস্তত বোধ করলেও কৌতূহল মেটাতে তাকে ডাক দিলাম। bangla story
"আপু শুনছেন?"
"জ্বি ভাইয়া বলেন?"
"একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবো?"
মেয়েটা হেসে জবাব দিলো,
" আমি জানি আপনি কি জিজ্ঞাসা করবেন।" short stories in bengali
একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে রইলাম।
মেয়েটা নিজের থেকেই বললো,
"আমার বাবা অথর্ব। সড়ক দুর্ঘটনায়   bengali love story
দুটি পা হারিয়ে ঘরের এক কোণে পড়ে আছেন। মা টুকটাক সেলাই জানেন। কিন্তু তা দিয়ে কি সংসার চলে? ছোট দুটো ভাই বোন আছে। ওদের পড়ার খরচ, দৈনন্দিন জীবনের খরচ, অনেক ভেবে চিন্তে আমি চাকরি খুঁজতে থাকি। কোনোমতে অনার্সটা শেষ করি। একটা চাকরিও পেয়ে যাই। তবে সমস্যা হলো অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায়। সেদিন আমার এক কলিগ অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল জানোয়ারের কাছে ধর্ষিত হয়। হতে পারে, সেই জানোয়ারদের পরবর্তী শিকার আমি। তাই, প্রটেকশন নিয়ে রাখছি সাথে। ওই যে বলে না? ধর্ষণ যখন সুনিশ্চিত তা উপভোগ করাই শ্রেয়?" short stories in bengali
আমি বললাম,
" আপু দেশে আইন বলে কিছু আছে।"
সে তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো, bangla story
"ভাগ্যিস মনে করিয়ে দিলেন! বলতে ভুলে গেছিলাম, আমার কলিগ পুলিশের কাছেও গিয়েছিলো। শুনেছি, উনিও কুপ্রস্তাব দিয়ে বসেছেন। বাপ মরা মেয়ে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা ভেবে গলায় দড়িও দিতে পারছে না।"
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। মেয়েটি শান্ত গলায় বললো,
"কখনো যদি আমার এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তবে আমি উপভোগই করবো। কারন এই সুশীল সমাজ ধর্ষককে নয়, ধর্ষিতাকে অপরাধীর চোখে দেখে। আর আমি  short stories in bengali তো সমাজের নিয়ম অমান্য করে চলি। চাকরি করি, রাত করে বাড়ি ফিরি। এ জাতীয় মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হয়। এদের জন্য সমাজ ধর্ষককে দায়ী করবে না। আমার ওপর আমার মা-বাবার ভালো থাকা আর আমার ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আছে। আমাকে যে আরো অনেক দিন বাঁচতে হবে ভাই! ভালো থাকবেন।"
লক্ষ্য করলাম মেয়েটার চোখের কোণায় জল চিকচিক করছে। সে মলিন হেসে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো। আমি ঝাপসা চোখে তাঁকিয়ে রইলাম তার প্রস্থানের পথে। bengali love story



© Atia_Adiba
thumbnail

চল্লিশ দিন | শেষ-পর্ব

চল্লিশ দিন  
                                                 
                                                         শেষ পর্ব



                            
                                                  bengali love story তনু স্ত্রী। কিন্তু তাকে স্পর্শ করা যাবে না এখন … চল্লিশ দিনের মধ্যে একবার স্পর্শ করা লাগবে … সেটা বাধ্যতামূলক … ইফতি এগুলো নিয়ে ভাবতে বসলেই আউলিয়ে যায়।
লোক দেখানো হানিমুনের আজ দ্বিতীয় দিন।ইফতি তনুর চঞ্চলতায় মাঝে মাঝে স্বাভাবিক হয়ে যায়। আবার যখন রিফাতের কথা তার মনে পরে তখনই অস্বাভাবিক আচরণ করে।
সেদিন সন্ধ্যায় তনুর জোরাজুরি তে ইফতি আবার বীচে ঘুরতে গেলো তনু তখন ঢেউ নিয়ে খেলার ছলে হাসতে হাসতে প্রায় ইফতিকে জড়িয়ে ধরলো।
হৃদস্পন্দন তখন এতটাই জোরে চলছিলো ইফতির যা হয়ত তনুও শুনতে পারছিলো।
প্রথমদিনের তুলনায় তনুকে এখন অন্যরকম লাগে ইফতির কাছে। তার প্রতি মায়া লাগে। হাত ধরে হাটতে ইচ্ছা করে। রাত জেগে কথা বলতে ইচ্ছা করে……… তাকে সব সত্য বলতে ইচ্ছা করে ইফতির। short stories in bengali যেটা শোনার পর তনু হয়ত বাকী কয়টা অপেক্ষা না করে চলে যাবে। আর কখনো কাউকে বিশ্বাস করবে না।
যদিও কথা ছিলো ৩ দিনের হানিমুন সে জায়গায় তারা ৭ দিন কাটিয়ে দিলো। কিন্তু ইফতি তনুকে একবারো স্পর্শ করলো না।
রিফাতের ফোন দেখলে সে কেটে দিতো। কোন কথা বলতো না।
৭ দিন পর যখন তারা বাসায় ফিরলো ততক্ষণে তাদের সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুত্বের দিকে। সকালের নাস্তাটা ইফতি তনুর ডাকের অপেক্ষায় থাকে। কিছু প্রয়োজন হলে সে মা কে না ডেকে তনুকে ডাকাডাকি শুরু করে। সন্ধ্যা হলে সবাই মিলে লুডু খেলে।
ইফতির দলে থাকে তনু। দুজনের বিপক্ষে থাকে ইফতির বাবা মা। খেলার ছলে অথবা গল্পের ছলে তনু ইফতির হাত টা ধরে। ইফতিও ঠিক তাই।
সে রাতে সবাই মিলে টিভিতে খেলা দেখসিলো। bengali love story তখনই রিফাতের ফোন। বিয়ের আজ ১৭ দিন চলছে। 
সে ফোন করেই বলল
- নিচে নাম দোস্ত … আমি তোর বাসার নিচে।
ইফতি সবার মধ্যে থেকে উঠে গেলো। সে বলল
- এখন আসতে পারবো না। খেলা দেখসি।
- দোস্ত প্লিজ। একটু কথা আছে।
ইফতি তার অনুরোধে বাধ্য হয়ে নেমে গেলো।
রিফাতের হাতে একটা ছুড়ি। ইফতি খানিকটা ভয় পেয়ে গেলো।
- কি ব্যাপার তোর হাতে ছুড়ি কেন?
- দোস্ত আমি তনুরে ছাড়া মইরা যামু। short stories in bengali এই ২৩ দিন আমি কেমনে কাটামু দোস্ত?
ইফতি রিফাতের এমন পাগলামি দেখে কিছু বলল না। রিফাত ছুড়িটা তার নিজের গলায় ধরে বলল
- আমি সত্যিই মরে যামু। তুই ওরে ধরস নাই তো এখনো?
-না।
- আমার কসম?
- আমি ওর হাতটা ধরি মাঝে মাঝে।
- কেন ধরস? আমি না তোরে মানা করসি?
- ও আমার স্ত্রী রিফাত। আমার ওর হাত ধরাটা কোন ভুল দেখি না।
রিফাত গলা থেকে ছুড়ি নামিয়ে নিজের হাতে একটা পোজ দিলো।
ইফতি রিফাতের হাত থেকে বের হওয়া রক্ত দেখে ঘাবড়ে গেলো। সে রিফাতকে তার এলাকার একটা ফার্মেসিতে নিয়ে গেলো। ড্রেসিং করানো শেষ হলে রিফাতকে সে আশ্বস্ত দিলো তনু কে সে আর স্পর্শ করবে না।
রিফাত খুশি মনে চলে গেলো। short stories in bengali ইফতি বসে রইলো ফার্মেসিতে। রিফাত চলে গিয়েছে কিনা সেটা ভালো মত দেখে ফার্মেসির লোকটা বলল
- এই পাগলরে কেমনে চিনেন?
- বন্ধু হয়।
- পাগল একটা। নিশা করতে করতে এহন আর কিচ্ছু বাকি নাই।
- ও নেশা করে?
- হ নেশা করে। মাঝে মাঝে ওর বৌটারে পিটায়া নিজেই নিয়া আইতো এইহানে। কইতো বেন্ডেজ করেন মামা।
- মাইয়াডা খালি কানত। একদিন আমিই অই মাইয়ার বাপেরে ডাইকা কইলাম মাইয়ারে বাঁচাইতে চাইলে নিয়া যান।
-তারপর?
- তারপর নিয়া গেলো। মাইয়াও এই এলাকারই।
- হুম।
ইফতি বাসায় চলে গেলো। তার কাছে সব এলোমেলো লাগছে। bengali love story সে কি আসলে ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তনু কি রিফাতের কাছে নিরাপদ? ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসলো।
তনু ইফতিকে দেখে দৌড়ে আসলো।
- কি হইসে? কই গেসিলেন? ফোন দিচ্ছিলাম ধরেন না। ওমা রক্ত কিসের?
ইফতি খেয়ালই করে নাই তার শার্টে রক্তের দাগ লেগে আছে।
- কিছুনা। একটা লোক ব্যাথা পেয়েছিলো তাকে নিয়ে ফার্মেসিতে গিয়েছিলাম।
- কে? উনি ঠিক আছে এখন? bangla story কেমন করে ব্যাথা পাইলো?
ইফতি কিছু বলতেই নিচ্ছিলো তখন তার মা এসে হাউমাউ করে কান্না জুড়িয়ে দিলো
- এই তুই কই গেসিলি? আমার কলিজা ধরফর করতাসিলো, বৌ ফোন দিসে ধরস নাই কেন?
ইফতি কারো উত্তর না দিয়ে ঘরে চলে গেলো। আজ সে সিগারেট  খাচ্ছে না। রাতে তনু কয়েকবার খাওয়ার জন্য ডাকলেও ইফতি উঠলো না।
সে শুয়েই রইলো। তনু এসে তার মাথায় হাত দিলেই সে চমকে বলল
- না লাগবে না। আমি ঠিক আছি।
- আপনি ঠিক নাই। আপনাকে মোটেও ঠিক লাগছে না। সব ঠিক আছে তো?
ইফতির কেন যেনো খুব অসহায় লাগছিলো। short stories in bengali সে তনুর কাছে সব বলতে চায়। কিন্তু পারছে না। তনুকে হারানোর ভয় কাজ করে এখন।
- হুম ঠিক আছে।
- যাওয়ার সময় সামনে আসছে বলে খারাপ লাগছে?
ইফতি আবারো চমকে উঠলো।
- কার যাওয়ার?
-ওমা আপনার। বিদেশে ফিরে যাওয়ার।
ইফতি ভেবেছিলো তনু সব জেনে গিয়েছে এবং সে তার ফিরে যাওয়ার কথা বলছে।
ভয়ের মধ্যে হলেও দিন কেটে যাচ্ছিলো। প্রায় প্রতিদিন রিফাত ফোন করে কান্নাকাটি করতো।
এর মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মধুর কোন মিলন তাদের এখনো হয় নি। রিফাতের কথা মোতাবেক ৩৯ দিনের মাথায় বিছানায় নিতে হবে তনুকে।
ভালো দিনগুলো বোধহয় তাড়াতাড়ি ই শেষ হয়ে যায়। তেমনটাই হলো।
আজ বিয়ের ৩৯ তম দিন।
এর মধ্যে তনু ইফতির সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি।
ইফতি তনুকে ভালোবাসা শুরু করেছে।
কেনইবা বাসবে না? ওকে ভালো না বেসে থাকা যায়?
সেদিন সন্ধ্যায় ইফতির ভয় করসিলো। কাল ৪০ দিন। bangla story যে কোন সময় রিফাত এসে তনুকে দাবী করবে। তনু সব সত্য জানবে। ছি! কি বাজে একটা অবস্থার সৃষ্টি হবে ভাবা যায়?
ভাবতেই ফোনটা বেজে উঠলো।
ম্যাসেজ এসেছে - "নিচে নাম। কথা আছে।"
ম্যাসেজ পাঠিয়েছে রিফাত। ইফতি দৌড়ে নেমে গেলো। কাউকে কিছু বলল না। তনু দেখতে পেলো ইফতি ফোন বাসায় রেখেই নেমে গিয়েছে।
ইফতি নিচে নামতেই রিফাত তার হাতে একটা কনডমের প্যাকেট ধরিয়ে বলল
- এটা রাখ। আমি চাই না তনুর পেটে আবার তোর বাচ্চা কাচ্চা থাকুক। এইসব আমি মাইনা নিতে পারবো না।
ইফতি আহাম্মকের মত তাকিয়ে বলল
- এটা কেমন কথা? তুই কি সেন্সে আছিস?
- হ তোরা আজকে ফুলসজ্জা করবি। পেটে একটা বাচ্চা দিয়ে দিতেই পারিস। তাই প্রটেক্টশন দিয়ে দিলাম। কালকে তুই ওরে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাবি। short stories in bengali আমি কি করুম? তোর বাচ্চা পালুম?
ইফতি প্যাকেটটা রিফাতের মুখে ছুড়ে মেরে দাড়িয়ে রইলো। অনেক্ষণ পর বলল
- বাসায় যা। পরে কথা হবে।
তাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পর ইফতি বাসায় উঠলো।
বাসায় নিজের ঘরে ঢুকতেই সে দেখলো তনু তার সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে সিগারেট খাচ্ছে। বাতি বন্ধ। তার চোখে পানি তা বাইরের আলোয় বোঝা যাচ্ছে।
ইফতি তনুর সামনে এসে বলল
- কি করছো এসব?
তনু অনেক মায়া ভরা চোখে ইফতির দিকে তাকিয়ে উঠে দাড়ালো। bengali love story দাড়িয়েই শাড়ির আঁচল বুক থেকে সরিয়ে বলল
- নেন যা করার করেন। আজই তো আপনার শেষ দিন।
হ্যাঁ তনু যখন ইফতির মোবাইল দিতে সাথে সাথে নেমে যায়। তখন সে নিজের কানে ইফতি ও রিফাতের কথোপকথন শুনে।
ইফতির বুঝতে বাকী রইলো না তনু সব জেনে গিয়েছে।
খুব কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা। ধরফর করছে একরকমের। ইফতি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো। সে খুব নিম্নস্বরে বলল
- আমি তোমাকে সবই বলতাম।
তনু এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো
- কবে বলতেন? আমাকে তালাক দেওয়ার দিন? হায়রে পুরুষ জাত? bangla story এর চেয়ে মেরেই ফেলতেন আমাকে। আর কিভাবে ভাবলেন আপনি ছেড়ে দিলেই আমি ওর কাছে আবার ফিরে যাবো?
- রিফাত তোমাকে অনেক ভালোবাসে। আর তুমিও …………
- আমিও? আমিও কি? হুম? এত সস্তা? আমি তো এই সংসারকে ভালোবাসি … আমি আপনাকে ভালোবাসি … আপনি এতদিনে তাও বুঝলেন না?
ইফতির কেন যেন এত কিছুর মাঝেও খুব ভালো লাগছে কথাটা শুনে। খুব শান্তি পাচ্ছে সে। সে তনুকে বলল
- তুমি প্লিজ ঠান্ডা হও।
- ঠান্ডা হওয়ার মত কি ঘটেছে ইফতি? কই আসেন আপনার বন্ধুর কথা মোতাবেক আপনার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করেন।
ইফতি নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। short stories in bengali এই প্রথম তার চোখ দিয়ে পানি বের হলো। এর আগে মায়ের হাতের মার খেয়েও কোনদিন সে কাঁদে নি।
৪০ দিন শেষ ………………………
রিফাত ফোন করেই যাচ্ছে। ইফতি তাকে ব্লক করে রেখেছে তাই নাম্বার ব্যস্ত দেখাচ্ছে।
না পেরে সে উপরেই উঠে আসলো বাসার। এসে দেখলো ঘরে কাজী বসে দুজনের বিয়ে পরাচ্ছেন ……… এই বিয়ের উদ্দেশ্য এবার নেক।
ইফতি তওবা করলো। সে আবার সহী করে তনুকে বিয়ে করলো।
সে রাতে ইফতি তনুর কাছে মাফ চেয়ে নেয়। আরেকবার সুযোগ চায়। bangla story আরেকটাবার সে তার দায়িত্ব সঠিকরূপে নিতে চায়। সে জানায় সেও এই ৪০ দিনে তনুকে ভালোবেসে ফেলেছে। তনুর মুখে তার প্রতি ভালোবাসা শুনে সেও সেদিন বলেই ফেলল।
রিফাত কোন ঝামেলা করার আগেই দেখলো তাদের ঘরে দুজন কনস্টেবল বসে আছেন। রিফাত এর নামে ইফতি নিজেই মামলা করলো।
রিফাতকে বন্দী করা হলো।
রিফাত এতটাই নেশাগ্রস্ত ছিলো যে কিছুদিন পর জেলখানায় নেশা না করতে পেরে আত্মহত্যা করলো।
তনু? সে এখন অনেক ভালো আছে। ইফতি চলে গিয়েছে। তাকেও নেওয়ার ব্যবস্থা চলছে।
অনেক ভালোবাসা তাদের মধ্যে। ইফতি কখনোই ভাবে নি সে কাউকে এভাবে ভালোবাসবে। তনু কখনো কল্পনাও করেনি তাকে কেউ এভাবে ভালোবাসবে।
তারা ভালো আছে। তারা ভালো থাকুক।
রিফাতের মত যাদের নিয়ত খারাপ তারা যেন কখনোই সফল না হয়।
(হালালা নিকাহের ইসলামে নিয়ম আছে। তবে সে যদি বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে বিয়ে করে তাহলে তা সহী হয় না। আর আমার কথা হলো হালালা নিকাহ করারই কি প্রয়োজন? যাকে ভালোবাসবেন, যে আপনার স্ত্রী ছিলো তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় মায়া লাগে নি। তো তাকে আবার পাওয়ার আশা কেন? bangla story মেয়েরা তো পুতুল না। যখন চাইবেন খেলবেন। যখন চাইবেন ফেলে দিবেন। ইচ্ছে হলে আবার তাকে বুকে টেনে নিবেন। মেয়েরাও মানুষ ……… তাদেরও কষ্ট আছে। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন) 
bengali love story

© Jakia Juliet
thumbnail

বন্ধুত্ব

বন্ধুত্ব:

বন্ধুত্ব


                              ওই বন্ধু অনেক বড় গার্মেন্টস দিছিলো , আগুনে পুইরা গেছে । love story এখন সে জেলে


ব্যাবসা ভালই যাইতেছিলো , ২ বছর হয়া গেছিলো প্রায় । bengali একদিন নদীর ওই পারে ৩ জন আমারে চাকু ধইরা কয়াকটা কাগজে সই করতে কয় । আমি বুইজা গেসিলাম এগুলা আমার ব্যাবসার কাগজ । কিন্তু কিছু করার ছিলো না । bengali story আমি সই কইরা দেই আর পুরা ব্যাবসা ওই বন্ধুর হইয়া যায় । তার দুই মাস পর আব্বা খুব অসুস্থ হইয়া পরে । bengali আমি আমার যা আছে সব বেইচা চিকিৎসা করাই । কিন্তু একটা সময় বেচার মতো আর কিছু ছিলো না আমার হাতে । আমি খুব লজ্জা নিয়া ওই বন্ধুর কাছে গিয়া নিজের ব্যাবসার ৭০ ভাগের ২০ ভাগ চাই তার পায়ে পইরা , আব্বার কথা বইলা । কিন্তু সে আমারে দেয় নাই । আমার যাওয়াটা মনে হয় বোকামি ছিলো, কিন্তু আমার করার কিছু ছিলো না। bengali story যে বন্ধু আমার বাসায় আসতো ,যে বন্ধুরে আব্বা পছন্দ করতো সেই বন্ধু সেদিন আব্বার জন্য টাকা দেয় নাই। দুনিয়া কতটা আগুনের মত ভয়ানক তা সেদিন বুঝছি । sad quotes আব্বা মারা যায় ।

তারপর আমি কষ্ট কইরা সেলাই মেশিন কিনা রাস্তায় বসি । bangla golpo এর পর থেইকা আমি ঠিক করছি সারাজীবন এমন সহজ ভাবেই জীবন কাটামু আমার । বেশি দরকার নাই ,সারাদিন রাস্তায় বইসা যা আসে তাই দিয়া হয়া যায় আমার ।

ওই বন্ধু অনেক বড় গার্মেন্টস দিছিলো , আগুনে পুইরা গেছে । love story এখন সে জেলে
thumbnail

চল্লিশ দিন| পর্ব -3



চল্লিশ দিন
                                                                                                    ৩য় পর্ব


© this photo may subject to copyrighted

                                           bengali love story রিফাত তনুর প্রথম স্বামী। সে ই ইফতিকে বাসর রাতে ফোন করে বলছিলো তনুর গায়ে স্পর্শ না করতে। bangla story
তনু জানলে হয়ত অনেক বড় ধাক্কা খাবে। সে তো এসবের কিছুই জানেনা।
সে জানেনা রিফাত ও ইফতি খুব কাছের বন্ধু। অনেক বছর বিদেশে থাকার কারণে তনুর ইফতি সম্পর্কে ধারণা ছিলো না। তাছাড়া রিফাত একটু স্বার্থপর … short stories in bengali সে তনুকে কারো সাথে পরিচয় করাতো না। ভাবতো সুন্দরী বৌ কে বন্ধুর সাথে পরিচয় করালে স্ত্রী পালিয়ে যাবে তার সাথে।
ইফতি যখন অনেক বছর পর দেশে ফিরলো সেদিনই সে রিফাতের বাসায় গেলো। গিয়ে দেখলো রিফাত অনেক অসুস্থ। তনুর সাথে তার কিছুদিন আগেই বিচ্ছেদ হয়েছে। এখন সে কোনভাবেই তনুকে ছাড়া চলতে পারছে না। তার এতদিনে মনে হয়েছে তার তনুর সাথে এমন করা ঠিক হয় নি।
রিফাতের মনে তনুর জন্য ভালোবাসা দেখে ইফতি যখন তনুর সাথে কথা বলার স্বিদ্ধান্ত নিলো তখন রিফাত তাকে বাধা দিলো।
সে ইফতিকে বুঝালো সে তনুকে আবার বিয়ে করতে চায়। যা এখন আর সম্ভব না। তনুর মনে তার জন্য এখন আর ভালোবাসা নাই। তাছাড়া ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তাদের আবার বিয়ে জায়েজ না। সেজন্য তনুকে আরেকটা বিয়ে করতে হবে। সেই স্বামীর সাথে ৪০ দিন সংসার করতে হবে। শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করতে হবে। এর পর যদি স্বামী তাকে ছেড়ে যায় তাহলেই তনু আবার ভেঙ্গে পড়বে। এই সুযোগে রিফাত তাকে আরেকবার বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিতে পারে।  bangla story
প্রথম ভালোবাসা বলে কথা। নিশ্চয়ই সে বারণ করবে না।
ইফতিকে রিফাত পা পর্যন্ত ধরতে দ্বিধা করলো না। সে বলল ইফতিকে তনু একেবারেই চিনে না। বিদেশে থাকা ছেলে শুনলে মেয়ের বাবা মা এমনেই খুশি হয়ে যায়। তনুকেও তারা রাজি করিয়েই ফেলবে এই আশায় রিফাত ইফতিকে দিন রাত শুধু অনুরোধ করে গেলো।
ইফতি যদি তনুকে বিয়ে না করে তাহলে রিফাত আত্মহত্যা করবে এই ভয় দেখিয়ে ইফতিকেও রাজি করিয়ে ফেলল সে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ইফতিকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে হলো তনুর বাসায়। ইফতির পরিবার রাজি না হওয়া স্বত্তেও রাজি করানো হলো। short stories in bengali
চল্লিশ দিন তাদের একসাথে সংসার করতে হবে। এরপর তনুকে ডিভোর্স দিয়ে ইফতি ফিরে যাবে বিদেশে। আজ দুইটা দিন পার হয়ে গিয়েছে … আরো ৩৮ দিন তাকে তনুর সাথে এভাবেই থাকতে হবে। রিফাত তাকে খুব করে নিষেধ করেছে তনুর গায়ে যেন স্পর্শ না করে। তাতে  bangla story নাকি মায়া বেড়ে যাবে। এতে সে তনুকে ডিভোর্স দিতে পারবে না।
আজ দুইটা রাত ধরে ইফতি ঘুমায় না। বন্ধুর কথা অনুযায়ী সে একটা অনেক বড় ভুল করেছে এখন তার এটাই মনে হচ্ছে। সেই মেয়েটা আবার বিশ্বাস করে নতুন জীবন শুরু short stories in bengali করলো সে তার সাথে আরেকবার বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
এই দুনিয়া থেকে হয়ত তনুর আশা উঠে যাবে। ভালোবাসা আর বিশ্বাস তো একেবারেই আর থাকবে না।
তনু আজ রাতে ঘুমিয়েছে। ইফতি বারান্দা থেকে ঘরে গিয়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো। সে তনুর দিকে এক নজরে তাকিয়ে রইলো।
মেয়েটা সুন্দর।  দেখে মনে হচ্ছে অনেকদিন পর ঘুমাচ্ছে শান্তিসহ …
তনুকে ধোকা দিচ্ছে ইফতি। bangla story  সে জানতে পারলে কষ্ট পাবে।
বারান্দায় গিয়ে রিফাতের সাথে কথা বলল ইফতি
- হুম বল।
- তনু কই?
-ঘুমায়। bengali love story
-তুই?
- আমি জেগে আছি।
- ও কিছু টের পায় নি তো।
- এখনো পায় নি। তবে short stories in bengaliএভাবে রাতে ফোন দিলে হয়ত টের পাবে।
- তুই নাম্বারটা অন্য নামে সেইভ করে রাখ। তাহলেই তো হয়।
- আমার কথা বলতে ভালো লাগছে না রাখি।
- আচ্ছা তুই ওর সাথে কিছু করিস নাই তো না?bengali love story
ইফতি কোন কথা না বলে ফোনটা কেটে দিলো।
সবই ভুল হচ্ছে।
রাত পার হয়ে গেলো। সকালে তনু গতকালের
মত ডেকে তুলল। তনুর ব্যবহার ও bangla story আন্তরিকতার কারণে তনুর পরিবার দুইদিনে তনুকে খুব পছন্দ করতে শুরু করলো।
ইফতির মায়ের তনুর প্রতি ভালোবাসা আর যত্ন দেখে ইফতি অবাক। কারণ তিনি তনুর সাথে ইফতি বিয়ে করলে গলায় ফাঁস দিবেন বলে খুব কান্না করেছেন। আজ সে ই তনুকে মুখে তুলে নাস্তা খাইয়ে দিচ্ছেন।
ইফতিকে বকছেন তার মা।
- তনু বলল তুই রাতে দেরীতে ঘুমাস। কি ব্যাপার সমস্যা কি তোর?
- ঘুম না আসলে কি করবো?
- ঘুম না আসলে বৌ এর সাথে গল্প করবি। তোকে এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেন? শরীর খারাপ নাকি?
- না আমি ঠিক আছি।
- ঠিক থাকলে কালই বৌকে নিয়ে ঘুরে আয়। short stories in bengali এই সময়গুলা হাতছাড়া করিস না বেকুব।
ইফতি একটু লজ্জা পেলো। রান্নাঘর থেকে তনু কথাগুলো শুনতে পেরে সে ও লজ্জা পেলো।
তনু কে ইফতি জিজ্ঞাসা করলো সে ঘুরতে যেতে চায় কিনা। তনু বলল
- আপনি যা ভালো বুঝেন…bengali love story
ইফতি রিফাতকে কিছু না জানিয়ে দুইটা বাসের টিকিট করলো… ইফতি হানিমুনের উদ্দেশ্যে নয় শুধুমাত্র ঘোরার উদ্দেশ্যে যেতে চাইছে। অন্যদিকে তনুর মনে অনেক জল্পনা কল্পনা তার হানিমুন নিয়ে।
তার পরদিনই তারা রওনা হলো বিশাল সমুদ্র বন্দরের উদ্দেশ্যে ………
আজ বিয়ের চতুর্থ দিন। আর মাত্র বাকি ৩৪ দিন।
ইফতি পাহাড় সমান সত্য মনে লুকিয়ে তনুর সাথে দিন রাত কাটাচ্ছে।
চলবে ……………bangla story
চল্লিশ দিন: ৩য় পর্ব short stories in bengali
© Jakia Juliet

All rights reserved to 
www.facebook.com/BhiteBari

Contact Form

Name

Email *

Message *